বছরের শেষ লগ্নে এসে বড়দিনের আনন্দে যখন শহর-গ্রাম আলোয় ঝলমল, ঠিক তখনই প্রকৃতিও যেন নিজের মতো করে উপস্থিতি জানাচ্ছে—জাঁকিয়ে পড়া শীতে। কনকনে উত্তরের হাওয়ায় ভোরের আকাশে কুয়াশার চাদর, সূর্যের দেখা মিলছে দেরিতে। বড়দিনের সকালে রাস্তাঘাটে মানুষের ভিড় থাকলেও, শীতের তীব্রতায় গলায় মাফলার, গায়ে মোটা সোয়েটার আর হাতে গরম চায়ের কাপ যেন নিত্যসঙ্গী।
আবহাওয়া দপ্তরের মতে, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ও ঠান্ডা হাওয়ার দাপটেই এই তাপমাত্রা পতন। রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কয়েক ডিগ্রি কমে যাওয়ায় ভোরের দিকে শীতের কামড় সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামবাংলায় শীতের প্রকোপ আরও স্পষ্ট—খেতের ধারে জমে থাকা শিশির, খেজুর গাছের রসে শীতের ছোঁয়া, আর কুয়াশা ভেদ করে চলা ভোরের ট্রেনের হুইসেল যেন শীতের গল্প শোনায়।
বড়দিন মানেই কেক, উৎসব আর মিলনমেলা। কিন্তু এবছর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শীতের আলাদা আমেজ। পার্ক স্ট্রিট থেকে শুরু করে চার্চ চত্বর—সবখানেই উৎসবের আলো আর ঠান্ডার সহাবস্থান। রাত বাড়লেই ঠান্ডা আরও তীব্র, তাই আনন্দের পাশাপাশি বাড়তি সতর্কতাও নিচ্ছেন মানুষজন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে উষ্ণ পোশাকের দিকে জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
শীত মানেই যেমন কিছুটা কষ্ট, তেমনই আছে তার নিজস্ব সৌন্দর্য। বড়দিনের সকালে কুয়াশা মোড়া রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে দূর থেকে ভেসে আসা ক্যারোল, গরম কফির ধোঁয়া আর ঠোঁট ছোঁয়া শীতল বাতাস—সব মিলিয়ে এবারের বড়দিন যেন স্মৃতির পাতায় আলাদা করে জায়গা করে নিল।
উৎসবের রঙে রাঙা এই শীতল বড়দিনে, কনকনে উত্তরের হাওয়া যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে—প্রকৃতির ছোঁয়াতেই উৎসবের আনন্দ পূর্ণতা পায়।