পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়ার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো। আজ রাজ্যজুড়ে প্রকাশিত হয়েছে খসড়া ভোটার তালিকা (Draft Electoral Roll)। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নিবিড় যাচাই-বাছাইয়ের পর এই তালিকায় প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
কেন বাদ পড়ল এত নাম?
নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাদ পড়া নামগুলির পেছনে একাধিক প্রশাসনিক ও বাস্তব কারণ রয়েছে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী—
প্রায় ২৪ লক্ষ মৃত ভোটার
প্রায় ১৯ লক্ষ স্থানান্তরিত বা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ভোটার
১২ লক্ষের বেশি তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘মিসিং’ এন্ট্রি
১ লক্ষেরও বেশি দ্বৈত বা ভুয়ো নাম
এই সমস্ত নাম যাচাই করেই খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ভোটার সংখ্যা কমল রাজ্যে
SIR প্রক্রিয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গের মোট ভোটার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে যেখানে ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৬ কোটি, সেখানে খসড়া তালিকা অনুযায়ী তা নেমে এসেছে আনুমানিক ৭.০৮ কোটিতে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, এই সংশোধনের ফলে ভোটার তালিকা আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য হবে।
কীভাবে হলো SIR প্রক্রিয়া?
নভেম্বর মাসের শুরু থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয় SIR।
বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন
অনলাইন ও অফলাইন ফর্মের মাধ্যমে তথ্য যাচাই হয়
রাজনৈতিক দল ও সাধারণ নাগরিকদের আপত্তি ও প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়
এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পরেই আজ খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হলো।
সাধারণ ভোটারদের জন্য করণীয়
নির্বাচন কমিশন ভোটারদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—
খসড়া তালিকায় নিজের নাম আছে কি না অবশ্যই যাচাই করতে হবে
নাম বাদ পড়লে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে Claims & Objections জমা দেওয়া যাবে
অনলাইন পোর্টাল ও স্থানীয় নির্বাচন দপ্তরের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ থাকবে
কমিশন জানিয়েছে, খসড়া তালিকা চূড়ান্ত নয়। যাচাই শেষে আপত্তি নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
SIR-এ বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়াকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক। বিরোধী দলগুলির একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, পুরো প্রক্রিয়াই নিয়ম মেনে ও তথ্য যাচাই করেই করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রকৃত ভোটারদের কোনওভাবেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না।
পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ নিঃসন্দেহে আসন্ন নির্বাচনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এখন সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণই নির্ধারণ করবে কতটা সফলভাবে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়। ভোটারদের কাছে নির্বাচন কমিশনের একটাই আবেদন—নিজের নাম যাচাই করুন, প্রয়োজনে দাবি জানান, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করুন।